রাজধানীতে ভবন নির্মাণ ও ভূমি ব্যবহারের অনুমোদন পেতে আবেদনকারীদের দাপ্তরিক দৌড়ঝাঁপ কমাতে অনলাইন সেবা চালু করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। সংস্থাটির আওতাধীন আটটি জোনে প্ল্যানিং পারমিট ও কনস্ট্রাকশন পারমিটের আবেদন এবং অনুমোদন কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালিত হচ্ছে। এতে আবেদন জমা দেওয়া, নথিপত্র যাচাই এবং আবেদনের অগ্রগতি জানার প্রক্রিয়া আগের তুলনায় সহজ হয়েছে।
রাজউকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাত মাসে প্ল্যানিং পারমিট ও কনস্ট্রাকশন পারমিটের জন্য মোট ১০ হাজার ৯৮৫টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৩টি আবেদন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাকি আবেদনগুলো প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি ও অন্যান্য প্রক্রিয়াগত কারণে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
এই সময়ে প্ল্যানিং পারমিটের জন্য ৭ হাজার ৫৫টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৩৯৩টি অনুমোদন দেওয়া হয়। অন্যদিকে কনস্ট্রাকশন পারমিটের জন্য জমা পড়া ৩ হাজার ৯৩০টি আবেদনের মধ্যে ২ হাজার ৬০০টি অনুমোদন পেয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্ল্যানিং পারমিটের আবেদন নিষ্পত্তির জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে কনস্ট্রাকশন পারমিটের আবেদন ২৪ দিনের মধ্যে বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন কমিটিতে উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে আবেদন নিষ্পত্তি নির্ভর করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও নকশা সঠিকভাবে জমা দেওয়ার ওপর।
আবেদনে কোনো ভুল বা কাগজপত্রের ঘাটতি থাকলে আবেদনকারীকে মোবাইল ফোন বা ই-মেইলের মাধ্যমে জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজনীয় সংশোধন করে আবেদন পুনরায় জমা দেওয়া যায় অনলাইনেই। এতে সংশোধনের জন্য বারবার সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে যাওয়ার প্রয়োজন কমে আসে।
রাজউকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগে পারমিট পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা এবং বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করতে হতো। অনলাইন ব্যবস্থায় আবেদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করার পাশাপাশি সেবার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংস্থাটির অন্যান্য কার্যক্রমও পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তবে পারমিটের আবেদন অনলাইনে নেওয়া হলেও ভবন নির্মাণসংক্রান্ত সব কার্যক্রম এখনো পুরোপুরি ডিজিটাল হয়নি। নকশা অনুমোদনের আগে অনেক ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিস, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সংস্থার অনাপত্তিপত্র বা এনওসি সংগ্রহ করতে হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু প্রক্রিয়া এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পরিচালিত হওয়ায় অনুমোদনের সামগ্রিক সময় কমানোর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে।
এ ছাড়া নকশা অনুমোদনের পর নির্মাণকাজ তদারকের কিছু কার্যক্রমও এখনো সরাসরি পরিদর্শন ও প্রচলিত পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল। ফলে রাজউকের নিজস্ব অনলাইন ব্যবস্থা চালু হলেও পুরো প্রক্রিয়াকে এক জায়গা থেকে সম্পন্ন করার সুযোগ এখনো তৈরি হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থার অনুমোদন ও অনাপত্তিপত্রের কার্যক্রম একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ ধরনের ব্যবস্থা চালু হলে আবেদনকারীরা একই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে পারবেন এবং সময় ও ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
রাজউকের পারমিট সেবার ডিজিটাল রূপান্তর নগর উন্নয়ন ও ভবন নির্মাণের অনুমোদনপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনছে। তবে এই উদ্যোগের পূর্ণ সুফল পেতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়, নির্ধারিত সময়ে আবেদন নিষ্পত্তি এবং নির্মাণকাজের তদারকিসহ পুরো প্রক্রিয়াকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর করা প্রয়োজন।











০ টি মন্তব্য