https://powerinai.com/

সাম্প্রতিক খবর

ভাঙা ল্যাপটপ থেকে নিজের প্রতিষ্ঠান, সংগ্রাম পেরিয়ে সফল ফ্রিল্যান্সার মিতু

ভাঙা ল্যাপটপ থেকে নিজের প্রতিষ্ঠান, সংগ্রাম পেরিয়ে সফল ফ্রিল্যান্সার মিতু ভাঙা ল্যাপটপ থেকে নিজের প্রতিষ্ঠান, সংগ্রাম পেরিয়ে সফল ফ্রিল্যান্সার মিতু
 

পারিবারিক সংকট, আর্থিক অনটন আর সামাজিক বাধা—সবকিছুকে পেছনে ফেলে নিজের চেষ্টায় ঘুরে দাঁড়িয়েছেন মুন্সিগঞ্জের মিতু আক্তার। একসময় ছয় মাসের সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হওয়া এই নারী এখন একজন সফল ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তা। নিজের পেশাগত পরিচয় গড়ার পাশাপাশি তাঁর প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে আরও প্রায় ১০ জন তরুণ-তরুণীর।

মিতুর জীবনের কঠিন সময় শুরু হয় ২০১৯ সালের দিকে। পারিবারিক টানাপোড়েন ও দাম্পত্য জীবনের বিচ্ছেদের পরিস্থিতিতে ছোট সন্তানকে নিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ নিতে হয় তাঁকে। উচ্চশিক্ষার সনদ না থাকা এবং পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তার অভাবে কাজ খুঁজে পাওয়া সহজ ছিল না। তবে প্রতিকূলতার কাছে হার না মেনে ঘরে বসে আয় করার উপায় খুঁজতে থাকেন তিনি।

২০২০ সালের শেষ দিকে ভাইয়ের একটি পুরোনো ও নষ্ট ল্যাপটপ সংগ্রহ করেন মিতু। সেটি মেরামত করে গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ শেখার চেষ্টা শুরু করেন। কিন্তু পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে ল্যাপটপটি আবারও নষ্ট হয়ে যায়। এতে তাঁর শেখার পথ বাধাগ্রস্ত হলেও স্বাবলম্বী হওয়ার ইচ্ছা থেমে থাকেনি।

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে এগিয়ে আসেন তাঁর মা। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নিজের কানের দুল বিক্রি করে সেই অর্থ তুলে দেন তিনি। মায়ের এই ত্যাগ মিতুর জীবনে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা হয়ে ওঠে।

এরপর সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) ও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী হন মিতু। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলন ও কাজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নিজের দক্ষতা বাড়াতে থাকেন। একপর্যায়ে আন্তর্জাতিক অনলাইন মার্কেটপ্লেসে ইতালির এক গ্রাহকের কাছ থেকে ১২০ ডলারের প্রথম কাজ পান তিনি।

প্রথম কাজের অভিজ্ঞতা তাঁকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস দেয়। ধীরে ধীরে বিদেশি গ্রাহকদের সঙ্গে কাজের পরিধি বাড়তে থাকে। পরবর্তী সময়ে ফাইভআরে লেভেল টু এবং আপওয়ার্কে টপ রেটেড ফ্রিল্যান্সার হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন তিনি।

ব্যক্তিগতভাবে কাজ করার পর্যায় পেরিয়ে একসময় অংশীদারকে সঙ্গে নিয়ে ‘বি মার্কেটিং এজেন্সি’ প্রতিষ্ঠা করেন মিতু। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ১০ জন তরুণ-তরুণী দূর থেকে কাজ করছেন। এসইও, গ্রাফিক ডিজাইন ও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের বিভিন্ন সেবা দিয়ে আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের সঙ্গে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি নিজের শিক্ষাজীবনও নতুন করে শুরু করেছেন মিতু। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন।

জীবনের নানা বাধা অতিক্রম করে নিজের উপার্জনে মায়ের বিক্রি করা গয়না ফিরিয়ে দেওয়া, স্কুটি কেনা এবং জমি কেনার মতো লক্ষ্যও পূরণ করেছেন তিনি। সন্তানের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজস্ব বাসায় থেকে স্বাবলম্বী জীবন গড়ে তোলার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।

মিতুর অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট, ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হতে শুধু একটি কম্পিউটার বা ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা, নিয়মিত অনুশীলন, ধৈর্য এবং গ্রাহকের চাহিদা বোঝার সক্ষমতা। বিশেষ করে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মতো পরিবর্তনশীল ক্ষেত্রে নতুন কৌশল শেখা ও সেগুলো কাজে প্রয়োগ করা গুরুত্বপূর্ণ।

এখন নিজের সাফল্যের অভিজ্ঞতা অন্য নারীদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে চান মিতু। পারিবারিক বা সামাজিক কারণে যাঁরা বাইরে গিয়ে কাজ করতে পারেন না, তাঁদের ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রাথমিক দক্ষতা শেখানো এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা করছেন তিনি। তাঁর লক্ষ্য, আরও বেশি নারীকে আত্মবিশ্বাসী ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা।

মিতুর পথচলা দেখায়, সীমিত সুযোগ কিংবা প্রতিকূল পরিস্থিতি পেশাগত উন্নতির পথ কঠিন করতে পারে, কিন্তু শেখার আগ্রহ ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।








০ টি মন্তব্য



মতামত দিন

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার মতামতটি দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।







পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? পুনরায় রিসেট করুন






রিভিউ

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার রিভিউ দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।