কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কিংবা লেখা তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। প্রযুক্তির নতুন অগ্রগতিতে এমন ডিজিটাল সহকারী তৈরি হচ্ছে, যেগুলো ব্যবহারকারীর নির্দেশনা অনুযায়ী ওয়েবসাইটে তথ্য খোঁজা, ই-মেইল তৈরি, অনলাইন ফরম পূরণ এবং বিভিন্ন ধাপের কাজ সম্পন্ন করতে পারে। এ ধরনের প্রযুক্তিকে বলা হয় এআই এজেন্ট।
প্রচলিত চ্যাটবটের সঙ্গে এআই এজেন্টের মূল পার্থক্য হলো কাজ সম্পাদনের সক্ষমতা। সাধারণ চ্যাটবট কোনো প্রশ্নের উত্তর বা প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়। এরপর সেই তথ্য ব্যবহার করে কাজটি সম্পন্ন করতে হয় ব্যবহারকারীকে। অন্যদিকে, এআই এজেন্টকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য জানিয়ে দিলে সেটি কাজের বিভিন্ন ধাপ সাজিয়ে নিতে পারে এবং অনুমোদিত ডিজিটাল টুল ব্যবহার করে একের পর এক পদক্ষেপ নিতে পারে।
ধরা যাক, কেউ ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার জন্য টিকিট খুঁজছেন। সাধারণ চ্যাটবট তাঁকে টিকিট কেনার ওয়েবসাইট বা প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে পারে। কিন্তু সক্ষমতাসম্পন্ন এআই এজেন্ট ভ্রমণের তারিখ ও পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন বিকল্প খুঁজে দেখা, ভাড়া তুলনা করা এবং বুকিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সাজানোর কাজ করতে পারে। অর্থ পরিশোধ বা বুকিং চূড়ান্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে ব্যবহারকারীর অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে।
দৈনন্দিন অফিসের কাজেও এআই এজেন্টের ব্যবহার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ই-মেইল থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য বের করা, বৈঠকের সময় নির্ধারণে সহায়তা, নথি গোছানো, নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি এবং একাধিক ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহের মতো কাজে এটি সময় বাঁচাতে পারে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গ্রাহকের সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, অর্ডারের তথ্য যাচাই এবং নিয়মিত প্রশাসনিক কাজেও এমন প্রযুক্তি কাজে লাগানো সম্ভব।
তবে এআই এজেন্ট নিজে থেকে কাজ করতে পারলেও সব পরিস্থিতিতে নির্ভুল সিদ্ধান্ত নেবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ভুল নির্দেশনা বুঝতে পারা, পুরোনো বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহার করা কিংবা অনলাইন প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কোনো ওয়েবসাইটে থাকা ক্ষতিকর নির্দেশনা অনুসরণ করে ফেললে এজেন্ট অনাকাঙ্ক্ষিত কাজও করতে পারে।
এ কারণে এআই এজেন্ট ব্যবহারের সময় অনুমতির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। কোন তথ্য ব্যবহার করা যাবে, কোন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যাবে এবং কোন কাজের আগে ব্যবহারকারীর সম্মতি নিতে হবে—এসব সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে আর্থিক লেনদেন, ব্যক্তিগত তথ্য পাঠানো, গুরুত্বপূর্ণ ই-মেইল প্রেরণ কিংবা কোনো চুক্তি চূড়ান্ত করার আগে নিজে যাচাই করা নিরাপদ।
প্রযুক্তিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুরুতে কম ঝুঁকির কাজ বেছে নেওয়া যেতে পারে। যেমন, তথ্য সংগ্রহ, তালিকা তৈরি বা বিভিন্ন পণ্যের দাম তুলনা করা। কাজের ফলাফল যাচাই করে ধীরে ধীরে অন্য দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় অ্যাকাউন্ট-অনুমতি বন্ধ রাখা এবং সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহারে সতর্ক থাকাও জরুরি।
এআই এজেন্টের অগ্রগতি ডিজিটাল সহকারীর ধারণাকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে মানুষকে প্রতিটি ধাপ নিজে সম্পন্ন করার বদলে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য জানিয়ে অনেক কাজ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগানোর পাশাপাশি সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রণ, তথ্যের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা মানুষের হাতেই রাখা গুরুত্বপূর্ণ।










০ টি মন্তব্য