ব্যবসায়িক ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা তথ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন সেবা উন্নয়নের কাজে ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছে মেটা। সমালোচনা বাড়ার পর নিজেদের বাণিজ্যিক নীতিমালা থেকে এ বিষয়ে বিতর্কিত একটি শর্ত সরিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
মেটার বাণিজ্যিক শর্তাবলির একটি ধারায় বলা হয়েছিল, ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত ওয়েবসাইট, ওয়েবপেজ ও ইউআরএল থেকে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট সংগ্রহ করে তা পণ্য ও সেবার উন্নয়ন, গবেষণা, এআই মডেল প্রশিক্ষণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।
এই শর্তের ভাষা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। কারণ, এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রকাশক ও প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের তথ্য ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। বিশেষ করে সংবাদ ও অন্যান্য কপিরাইটযুক্ত কনটেন্ট এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে মেটা নীতিমালার বিতর্কিত ভাষাটি সরিয়ে দেয়। প্রতিষ্ঠানটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিজ্ঞাপন ও ব্যবসায়িক সেবার ক্ষেত্রে ওয়েব ক্রলিং-সংক্রান্ত শর্তগুলো আরও পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করতেই নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে এই পরিবর্তনের ফলে ইন্টারনেট থেকে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে, এআই মডেল প্রশিক্ষণে কপিরাইটযুক্ত লেখা, ছবি ও অন্যান্য ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। এআই প্রযুক্তির উন্নয়নে বিপুল পরিমাণ তথ্য প্রয়োজন হলেও সেই তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে মালিকানা, অনুমতি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের মূল জায়গা হলো, কোনো ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য কীভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তা কোন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে ওয়েবসাইটের মালিকদের পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে সংবাদ প্রকাশক, কনটেন্ট নির্মাতা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তৈরি তথ্যের ব্যবহার নিয়ে স্পষ্ট নীতিমালা না থাকলে ভবিষ্যতে আরও বিরোধ তৈরি হতে পারে।
মেটার এই সিদ্ধান্ত ওয়েবসাইটের তথ্য সংগ্রহ ও এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহারের নিয়ম নিয়ে চলমান আলোচনাকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে। তবে বিতর্কিত শর্ত সরিয়ে নেওয়ার অর্থ এই নয় যে, প্রতিষ্ঠানটির তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে। বরং তথ্য ব্যবহারের নিয়ম কতটা স্বচ্ছ, তা নিয়ে প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে।











০ টি মন্তব্য