https://powerinai.com/

সাম্প্রতিক খবর

অনলাইনে সেবা, বাস্তবে ভোগান্তি: প্রবাসীদের ডিজিটাল ব্যবস্থায় কোথায় বাধা?

অনলাইনে সেবা, বাস্তবে ভোগান্তি: প্রবাসীদের ডিজিটাল ব্যবস্থায় কোথায় বাধা? অনলাইনে সেবা, বাস্তবে ভোগান্তি: প্রবাসীদের ডিজিটাল ব্যবস্থায় কোথায় বাধা?
 

বিদেশে বসে সরকারি সেবা নিতে অনলাইন আবেদন, ডিজিটাল পরিচয়পত্র ও ই-পাসপোর্টের ব্যবস্থা থাকলেও সব প্রবাসীর জন্য প্রক্রিয়াটি এখনো সহজ হয়ে ওঠেনি। ব্যক্তিগত তথ্যের অমিল, আবেদন যাচাইয়ে দীর্ঘসূত্রতা, সার্ভারের ত্রুটি এবং আবেদনের অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি অংশ। প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু হলেও তার সুফল পেতে গিয়ে অনেককে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, এমনকি একই কাজের জন্য বারবার যোগাযোগও করতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে।

প্রবাসীদের জন্য ডিজিটাল সেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো ই-পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মনিবন্ধন, ভিসা এবং কনস্যুলার সেবা। এসব নথি বিদেশে বৈধভাবে বসবাস, চাকরির অনুমতি নবায়ন ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে আবেদন প্রক্রিয়ায় সামান্য জটিলতাও কারও কারও জন্য বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।

২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মালয়েশিয়ায় কয়েকজন বাংলাদেশি কর্মীর ই-পাসপোর্ট পেতে কয়েক মাস অপেক্ষার চিত্র উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, পুরোনো পাসপোর্ট, এনআইডি, জন্মনিবন্ধন ও কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারে নাম, জন্মতারিখ কিংবা পরিবারের সদস্যদের তথ্যের অমিল থাকলে আবেদন অতিরিক্ত যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়ায় তিন থেকে ছয় মাস বা তারও বেশি সময় লাগার কথা জানানো হয়। পাসপোর্ট না পাওয়ায় কয়েকজন কর্মীর ভিসা ও কাজের অনুমতি নবায়ন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।

এ ধরনের পরিস্থিতি ডিজিটাল সেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা সামনে আনে। অনলাইনে ফরম পূরণ করা গেলেও আবেদনকারীর তথ্য সংশোধন, পুরোনো নথির সঙ্গে নতুন তথ্য মেলানো এবং কেন্দ্রীয় দপ্তরের অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগলে পুরো প্রক্রিয়া সহজ হয় না। বিশেষ করে বিদেশে থাকা শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ, সংশোধন এবং একাধিক দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন।

সার্ভারনির্ভর সেবায় প্রযুক্তিগত ত্রুটিও বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে। ২০২৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় সার্ভারের সমস্যার কারণে বিদেশে বাংলাদেশের কয়েকটি মিশনে ভিসা ও নো ভিসা রিকোয়ার্ড (এনভিআর) সেবা সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার তথ্য জানানো হয়। ফলে অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পরও কিছু আবেদনকারী প্রত্যাশিত সময়ে সেবা পাননি। এ ঘটনা দেখায়, ডিজিটাল সেবার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে শুধু অনলাইন ব্যবস্থা চালু করাই যথেষ্ট নয়; সার্ভারের নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম এবং বিকল্প সেবাব্যবস্থাও প্রয়োজন।

তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও জানিয়েছে। ২০২৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যেসব বাংলাদেশি মিশনে ই-পাসপোর্ট সেবা চালু রয়েছে, সেখানে অনলাইনে আবেদন, সুবিধাজনক সময়ে বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থা এবং আবেদনের অগ্রগতি জানার সুযোগ রয়েছে। পাসপোর্ট প্রস্তুত হলে আবেদনকারীকে এসএমএস বা ই-মেইলের মাধ্যমে জানানো হয়। এ ছাড়া ১৭টি দেশের ২৭টি বাংলাদেশি মিশনে প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি দেওয়ার কার্যক্রম চালু রয়েছে বলে তিনি জানান।

সরকার অনলাইন সত্যায়ন ও ই-অ্যাপোস্টিল সেবার মাধ্যমে কনস্যুলার কার্যক্রম সহজ করার উদ্যোগও নিয়েছে। পাশাপাশি পাসপোর্ট, ভিসা এবং জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্য যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত অনলাইন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। প্রতিটি বাংলাদেশি মিশনে অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থাও চালু রয়েছে বলে সংসদে উল্লেখ করা হয়।

তবে এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা নির্ভর করবে সেবা কত দ্রুত পাওয়া যাচ্ছে, অভিযোগের সমাধান কতটা সময়মতো হচ্ছে এবং আবেদনকারীরা কত সহজে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাচ্ছেন তার ওপর। আবেদন আটকে গেলে কোন দপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে, কী কারণে অতিরিক্ত যাচাই প্রয়োজন এবং সম্ভাব্য কত দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি।

প্রবাসীদের ডিজিটাল সেবা আরও কার্যকর করতে আবেদনকারীর তথ্যের অমিল শনাক্ত করার পাশাপাশি তা সংশোধনের সহজ পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন। একই তথ্য বারবার জমা দেওয়ার ঝামেলা কমানো, দূতাবাস ও দেশের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মধ্যে সরাসরি ডিজিটাল সমন্বয় বাড়ানো এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণও গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সার্ভার সমস্যার সময় বিকল্প প্রক্রিয়ায় জরুরি আবেদন নিষ্পত্তির সুযোগ থাকলে ভোগান্তি কমতে পারে।

প্রবাসীদের জন্য ডিজিটাল সেবার প্রকৃত সাফল্য শুধু অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ তৈরিতে নয়, বরং নির্ধারিত সময়ে নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করার মধ্যে। বিদেশে কর্মরত মানুষের সময়, আয় ও বৈধ অবস্থানের সঙ্গে এসব সেবা জড়িত। তাই প্রযুক্তির সুবিধা যেন নতুন অপেক্ষা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণ না হয়, সে জন্য প্রয়োজন কার্যকর সমন্বয়, স্বচ্ছতা এবং দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি।








০ টি মন্তব্য



মতামত দিন

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার মতামতটি দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।







পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? পুনরায় রিসেট করুন






রিভিউ

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার রিভিউ দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।