https://powerinai.com/

সাম্প্রতিক খবর

সাইবার হামলা ঠেকাতে ৬৩ মিলিয়ন ডলারের জরুরি প্যাকেজ জাপানের, হ্যাকার শনাক্তে কাজে লাগবে এআই

সাইবার হামলা ঠেকাতে ৬৩ মিলিয়ন ডলারের জরুরি প্যাকেজ জাপানের, হ্যাকার শনাক্তে কাজে লাগবে এআই সাইবার হামলা ঠেকাতে ৬৩ মিলিয়ন ডলারের জরুরি প্যাকেজ জাপানের, হ্যাকার শনাক্তে কাজে লাগবে এআই

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় আরও শক্তিশালী সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে জরুরি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাপান সরকার। দেশটির বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি কোম্পানিতে ধারাবাহিক সাইবার হামলার পর ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রায় ১০ বিলিয়ন ইয়েন বা ৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিশেষ প্যাকেজ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই উদ্যোগে সাইবার হামলা শনাক্ত, দুর্বলতা বিশ্লেষণ, আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত সহায়তা এবং এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে হ্যাকারদের কার্যক্রম মোকাবিলার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ৭ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে জাপানের কয়েক ডজন কোম্পানি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে সাইবার নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকসংক্রান্ত তথ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সেবাও ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সরকার দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

জাপানের নতুন কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি সাইবার নিরাপত্তা দল গঠন। নভেম্বরের শেষ নাগাদ দেশটির অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিশেষজ্ঞদের একটি দল কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ দলকে বিশেষভাবে নেটওয়ার্কের দুর্বলতা শনাক্ত, পেনিট্রেশন টেস্টিং এবং সম্ভাব্য সাইবার আক্রমণ প্রতিরোধের কাজে ব্যবহার করা হবে। হ্যাকাররা কোনো প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ খুঁজে বের করার আগেই সেই দুর্বলতা শনাক্ত করাই হবে এ ধরনের পরীক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য।


এ ক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রচলিত পদ্ধতিতে একটি বড় প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক, সফটওয়্যার এবং সার্ভারের নিরাপত্তা পরীক্ষা করতে বিপুলসংখ্যক বিশেষজ্ঞ ও দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এআইভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিপুল পরিমাণ লগ, নেটওয়ার্ক ট্রাফিক, সফটওয়্যার কোড এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম দ্রুত বিশ্লেষণ করতে পারে। কোনো অস্বাভাবিক সংযোগ, অননুমোদিত প্রবেশের চেষ্টা কিংবা পরিচিত আক্রমণের সঙ্গে মিল পাওয়া গেলে নিরাপত্তা দলকে দ্রুত সতর্ক করা সম্ভব।

জাপানের পরিকল্পনায় শুধু প্রযুক্তিগত দল গঠন নয়, সাইবার হামলায় আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করার ব্যবস্থাও রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা ও বেসরকারি খাতের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি সহায়তা দল গঠন করা হবে। কোনো কোম্পানি সাইবার আক্রমণের শিকার হলে এই দল প্রাথমিক তদন্ত, ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ এবং সেবা পুনরুদ্ধারে সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তার দিক থেকে দুর্বল, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করতে পৃথক সহায়তার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এই উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সক্রিয় সাইবার প্রতিরক্ষা। জাপানে অক্টোবর মাসে কার্যকর হওয়া আইনি ব্যবস্থার আওতায় জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করা হ্যাকারদের ব্যবহৃত সার্ভার শনাক্ত ও সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সরকারি সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। নতুন প্যাকেজের মাধ্যমে এ ধরনের কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, জাতীয় পুলিশ সংস্থা এবং জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট হুমকি মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করবেন।

এআইভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও সহযোগিতার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে বন্ধুপ্রতিম দেশের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং এআই ডেভেলপারদের সঙ্গে কাজ করে হুমকি শনাক্ত ও প্রতিরোধের সক্ষমতা বাড়াতে চায় জাপান।

তবে এআই দিয়ে সাইবার হামলা প্রতিরোধের পাশাপাশি একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আক্রমণ পরিচালনার ঝুঁকিও বাড়ছে। হ্যাকাররা স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুর্বলতা খুঁজে বের করা, প্রতারণামূলক বার্তা তৈরি এবং বিভিন্ন নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার কাজে এআই ব্যবহার করতে পারে। ফলে শুধু প্রচলিত অ্যান্টিভাইরাস বা ফায়ারওয়ালের ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতের সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলা করা কঠিন হবে।

বাংলাদেশের জন্যও জাপানের এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে। দেশের ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, টেলিযোগাযোগ কোম্পানি, সরকারি পোর্টাল এবং ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল সেবার ব্যবহার বাড়ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের তথ্য সুরক্ষায় নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা, দ্রুত সফটওয়্যার আপডেট এবং দক্ষ সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তৈরি করা জরুরি। জাপানের মতো সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামোও আরও নিরাপদ করা সম্ভব।








০ টি মন্তব্য



মতামত দিন

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার মতামতটি দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।







পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? পুনরায় রিসেট করুন






রিভিউ

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার রিভিউ দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।