https://powerinai.com/

সাম্প্রতিক খবর

যুক্তরাষ্ট্রের ৪১ হাজার সরকারি কর্মীর তথ্য ফাঁস

যুক্তরাষ্ট্রের ৪১ হাজার সরকারি কর্মীর তথ্য ফাঁস যুক্তরাষ্ট্রের ৪১ হাজার সরকারি কর্মীর তথ্য ফাঁস
 

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (ডিএইচএস) ৪১ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক তথ্য প্রকাশ করেছে একটি হ্যাকটিভিস্ট গোষ্ঠী। ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী অভিযান পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের তথ্যও রয়েছে। এ ঘটনায় মার্কিন সরকারি সংস্থাগুলোর তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সিক্রেটস’ (ডিডিওএস) নামের একটি অলাভজনক তথ্য সংরক্ষণ ও প্রকাশকারী সংগঠন এই তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে। তাদের দাবি, ‘ডিপার্টমেন্ট অব পিস’ নামে পরিচিত একটি হ্যাকটিভিস্ট গোষ্ঠীর কাছ থেকে তথ্যগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে।


ফাঁস হওয়া তথ্য ব্যবহার করে সরকারি কর্মীদের পরিচয়, কর্মস্থল এবং দায়িত্ব সম্পর্কে অনুসন্ধান করা সম্ভব। এ উদ্দেশ্যে গোষ্ঠীটি ‘আইসপিক’ নামের একটি অনুসন্ধান টুল তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাংগঠনিক অবস্থান সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।

ডিডিওএসের সংশ্লিষ্ট কর্মী মাইয়া আরসন ক্রিউ বলেন, তথ্যভান্ডারটির ব্যাপ্তি ও সম্ভাব্য প্রভাব দুটিই উল্লেখযোগ্য। এতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থা এবং তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মীদের দায়িত্ব সম্পর্কিত তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সংগঠনটির সহপ্রতিষ্ঠাতা এমা বেস্টের মতে, ফাঁস হওয়া তথ্যের মাধ্যমে গোপন অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা, সরকারি তথ্য ফাঁসের ঘটনা তদন্তে নিয়োজিত ব্যক্তিদের পাশাপাশি অভিবাসীদের আটক ও বহিষ্কার কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদেরও শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করেন। এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন আইসিই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য প্রকাশের ঘটনাটি নিরাপত্তার দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়া শহরগুলোতে অভিযান আরও বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এসব শহরে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতা সীমিত রাখার নীতি অনুসরণ করা হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন উদ্যোগে সেখানে অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

নির্দলীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৮ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন আইসিইসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষকে বহিষ্কার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই সময়ে অভিবাসন আইনের প্রয়োগ ও বহিষ্কার কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে।

৪১ হাজারের বেশি সরকারি কর্মীর তথ্য প্রকাশের ঘটনায় সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি কতটা বিস্তৃত, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সংবেদনশীল দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের পরিচয় ও কর্মস্থলের তথ্য উন্মুক্ত হয়ে পড়লে তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং সরকারি কার্যক্রমের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।








০ টি মন্তব্য



মতামত দিন

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার মতামতটি দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।







পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? পুনরায় রিসেট করুন






রিভিউ

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার রিভিউ দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।