যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উইনচেস্টার কলেজে শ্রেণিকক্ষ ও বাড়ির পড়াশোনায় ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার কমানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা এবং পড়াশোনায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে আবারও কলম ও কাগজে লেখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার বিস্তারের মধ্যে এই উদ্যোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষের মতে, পড়াশোনার সময় অতিরিক্ত ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। ল্যাপটপে একসঙ্গে একাধিক কাজ করা, বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা এবং অনলাইন নোটিফিকেশনের কারণে পড়ার ধারাবাহিকতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই যেখানে প্রযুক্তি ব্যবহার না করেও কার্যকরভাবে শেখা সম্ভব, সেখানে প্রচলিত পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উইনচেস্টার কলেজে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। ছোট শিক্ষার্থীদের বাড়ির কাজ হাতে লিখে করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রয়োজন ছাড়া ল্যাপটপ ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে এআই মডেলিং, বিশেষায়িত ডিজিটাল কাজ কিংবা শেখার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সহায়তা প্রয়োজন হলে কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ থাকছে।
স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ, কাজ শেষ করার গতি এবং শ্রেণিকক্ষে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা উঠে এসেছে। শিক্ষার্থীরা অবসর সময়ে বই পড়া ও অন্যান্য কার্যক্রমেও বেশি সময় দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্যোগটির প্রভাব আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে গবেষণার কাজও চলছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী তা ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। ডিজিটাল শিক্ষা আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও অতিরিক্ত স্ক্রিননির্ভরতা শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতায় কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রযুক্তি ও প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতির মধ্যে ভারসাম্য রাখাই হতে পারে ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম চ্যালেঞ্জ।








০ টি মন্তব্য