আজকের বাংলাদেশে কম্পিউটার, ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন, অনলাইন সেবা, ই-কমার্স, ফ্রিল্যান্সিং কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর বিস্ময়ের বিষয় নয়। প্রযুক্তি এখন আমাদের জীবন, শিক্ষা, অর্থনীতি, প্রশাসন, গণমাধ্যম ও যোগাযোগব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এই স্বাভাবিকতার পেছনে যে দীর্ঘ সংগ্রাম, দূরদর্শিতা, জনসচেতনতা ও নীতি-আন্দোলনের ইতিহাস আছে, আমরা কি সেটি যথেষ্ট মনে রেখেছি? আজ যখন ডিজিটাল বাংলাদেশের সাফল্য নিয়ে আমরা গর্ব করি, তখন কি আমরা স্মরণ করি সেই মানুষটিকে, যিনি নব্বইয়ের দশকের শুরুতে সাহস করে বলেছিলেন, ‘জনগণের হাতে কমপিউটার চাই’?
সেই মানুষটি মরহুম অধ্যাপক আবদুল কাদের। আর তাঁর সেই স্বপ্নের জনমুখী বাহন ছিল মাসিক কমপিউটার জগৎ। ১৯৯১ সালের মে মাসে যখন বাংলাদেশে কম্পিউটার ছিল অল্প কিছু প্রতিষ্ঠানের ব্যয়বহুল যন্ত্র, তখন অধ্যাপক কাদের প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের অধিকার, শিক্ষার উপকরণ এবং উন্নয়নের শক্তি হিসেবে দেখেছিলেন। তিনি শুধু একটি পত্রিকা প্রকাশ করেননি; তিনি বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে একটি সামাজিক আন্দোলনের দরজা খুলে দিয়েছিলেন।
৩ জুলাই তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৩ সালের এই দিনে তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। কিন্তু প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্র, প্রযুক্তি সমাজ, শিক্ষাঙ্গন ও গণমাধ্যম কি তাঁকে তাঁর প্রাপ্য মর্যাদায় স্মরণ করেছে? উত্তরটি অস্বস্তিকর। বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাত যত বড় হয়েছে, তার প্রারম্ভিক পথিকৃৎদের স্মরণ ততটা বড় হয়নি। এই বিস্মৃতি শুধু একজন মানুষের প্রতি অবিচার নয়; এটি আমাদের প্রযুক্তি-ইতিহাসের প্রতি অবহেলা।
অধ্যাপক আবদুল কাদের পেশায় ছিলেন শিক্ষক। তিনি মৃত্তিকা বিজ্ঞান পড়াতেন। ১৯৭২ সালের ১ অক্টোবর ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে প্রভাষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। পরে তিনি সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে দায়িত্ব পালন করেন এবং কম্পিউটার কোর্স চালু ও শিক্ষক প্রশিক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। মৃত্যুর সময় তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক, প্রশিক্ষণ, হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
কিন্তু তাঁর পরিচয় শুধু শিক্ষকতা বা প্রশাসনিক দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত অর্থে তিনি ছিলেন বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি আন্দোলনের এক নীরব সংগঠক। তিনি সময়ের আগেই বুঝেছিলেন, তথ্যপ্রযুক্তি শুধু যন্ত্রের বিষয় নয়। এটি ক্ষমতায়নের বিষয়। এটি জ্ঞান, ভাষা, দক্ষতা, কর্মসংস্থান, নাগরিক অধিকার ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিষয়। তাই তিনি কম্পিউটারকে কেবল দপ্তরের টেবিলে আটকে রাখতে চাননি। তিনি চেয়েছিলেন এটি স্কুলে যাক, কলেজে যাক, মাদ্রাসায় যাক, মফস্বলে যাক, সাধারণ মানুষের হাতে যাক।
এই উপলব্ধি থেকেই জন্ম নেয় মাসিক কমপিউটার জগৎ। বাংলা ভাষায় তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক নিয়মিত পত্রিকা প্রকাশ করা তখন সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। লেখক কম, পাঠক অনিশ্চিত, বিজ্ঞাপন বাজার দুর্বল, প্রযুক্তি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা সীমিত। তবু অধ্যাপক আবদুল কাদের সাহস করেছিলেন। কারণ তিনি জানতেন, একটি পত্রিকা কখনও কখনও শুধু পত্রিকা থাকে না; এটি আন্দোলনের ভাষা হয়ে ওঠে। কমপিউটার জগৎ ঠিক সেই কাজটিই করেছিল।
আমার ব্যক্তিগত তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষার শুরুতেও মাসিক কমপিউটার জগৎ-এর বিশেষ ভূমিকা আছে। ১৯৯১ সালে আমি বরিশাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি, সংক্ষেপে বিডিএসে, জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করতাম। বর্তমানে এটি বরিশাল বিভাগীয় সদরভিত্তিক বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি নামে পরিচিত। সেই সময় তথ্যপ্রযুক্তি ছিল নতুন, দূরের এবং অনেকের কাছে জটিল একটি বিষয়। কমপিউটার জগৎ আমার কাছে ছিল তথ্যপ্রযুক্তির প্রথম শিক্ষক। বাংলা ভাষায় সহজভাবে কম্পিউটার, সফটওয়্যার, প্রোগ্রামিং, ইন্টারনেট, প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে জানার সুযোগ আমি প্রথম পাই এই পত্রিকার মাধ্যমে। আমার মতো অনেক উন্নয়নকর্মী, শিক্ষক, ছাত্র, সাংবাদিক ও তরুণ পেশাজীবী কমপিউটার জগৎ থেকে তথ্যপ্রযুক্তির প্রথম পাঠ নিয়েছেন।
অধ্যাপক আবদুল কাদেরের বড় অবদান ছিল তিনি প্রযুক্তিকে গণমানুষের আলোচনার বিষয় বানিয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা আয়োজনের পথ তৈরি করেন। প্রথম ইন্টারনেট মেলা আয়োজনের মতো উদ্যোগেও তিনি ও কমপিউটার জগৎ অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। আইসিটিতে বাংলা ভাষার ব্যবহার, দেশের সর্বত্র মোবাইল ফোনের প্রসার, নিজস্ব স্যাটেলাইটের দাবি, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় কম্পিউটার শিক্ষা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং সাধারণ মানুষের প্রযুক্তি-সচেতনতা তৈরিতে কমপিউটার জগৎ ধারাবাহিকভাবে জনমত গড়ে তোলে।
তাঁর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল নীতিগত দূরদর্শিতা। তিনি বুঝেছিলেন, কম্পিউটার মানুষের হাতে পৌঁছাতে হলে দাম কমাতে হবে। দাম কমাতে হলে কম্পিউটার ও কম্পিউটার-সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর শুল্ক কমাতে হবে। তাই তিনি শুল্কমুক্ত কম্পিউটার আমদানির দাবি সামনে আনেন। শুধু পত্রিকায় লেখা নয়, সেমিনার, আলোচনা, সংবাদ সম্মেলন, নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ, জনসচেতনতা, সবকিছুর মাধ্যমে তিনি এই দাবিকে এগিয়ে নেন।
আজকের দিনে এই দাবিগুলোর গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কারণ প্রযুক্তি যদি ব্যয়বহুল থাকে, তবে তা বৈষম্য বাড়ায়। প্রযুক্তি যদি ভাষাগতভাবে দূরবর্তী থাকে, তবে তা জ্ঞানকে সীমিত করে। প্রযুক্তি যদি শহরকেন্দ্রিক থাকে, তবে তা গ্রাম, চর, উপকূল, পাহাড়, নারী, তরুণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আরও পিছিয়ে দেয়। অধ্যাপক আবদুল কাদের এই সত্যটি নব্বইয়ের দশকেই বুঝেছিলেন। তাঁর ভাবনা ছিল অন্তর্ভুক্তিমূলক। তাঁর প্রযুক্তি-দর্শনের কেন্দ্রে ছিল মানুষ।
দ্রুতগতির ইন্টারনেট ও বৈশ্বিক সংযোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও কমপিউটার জগৎ অনেক আগেই জাতিকে সতর্ক করেছিল। আজ আমরা বুঝি, ইন্টারনেট ছাড়া আধুনিক অর্থনীতি, শিক্ষা, ব্যবসা, সরকারি সেবা, গণমাধ্যম, ফ্রিল্যান্সিং কিংবা বিশ্ববাজারে প্রবেশ সম্ভব নয়। কিন্তু যখন এ বিষয়ে ভুল ধারণা, আমলাতান্ত্রিক ভয় এবং তথ্যের ঘাটতি ছিল, তখন অধ্যাপক আবদুল কাদেরের নেতৃত্বে কমপিউটার জগৎ জনসচেতনতার কাজ করেছে। বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন ধারাবাহিক, যুক্তিনির্ভর ও জনগণমুখী অবস্থান সে সময় বিরল ছিল।
সমস্যা হলো, আমরা এই ইতিহাস যথাযথভাবে সংরক্ষণ করিনি। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের সাফল্য নিয়ে কথা বলি, কিন্তু ডিজিটাল চেতনার প্রথম দিকের স্থপতিদের স্মরণ করি না। আমরা প্রযুক্তি মেলা করি, স্টার্টআপ উদ্যাপন করি, আইসিটি পুরস্কার দিই, কিন্তু অধ্যাপক আবদুল কাদেরের মতো পথিকৃৎদের জাতীয় স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে স্থান দিই না। ফলে নতুন প্রজন্ম জানে না, বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি আন্দোলন কোনো একদিনে শুরু হয়নি। এর পেছনে আছে বহু মানুষের ত্যাগ, চিন্তা, শ্রম, লেখালেখি, সংগঠন, নীতি-আন্দোলন ও সামাজিক প্রস্তুতি।
এটি শুধু স্মৃতিভ্রংশ নয়; এটি নীতিগত সমস্যা। কারণ যে জাতি নিজের প্রযুক্তি-ইতিহাস জানে না, সে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি-রাজনীতিও গভীরভাবে বুঝতে পারে না। আজ আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সুরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল বৈষম্য, ভাষাগত ন্যায়বিচার, অনলাইন অধিকার ও প্রযুক্তি-সার্বভৌমত্ব নিয়ে আলোচনা করছি। কিন্তু নব্বইয়ের দশকের ‘জনগণের হাতে কমপিউটার চাই’ স্লোগান আসলে আজও প্রাসঙ্গিক। আজ তার নতুন ভাষা হতে পারে: জনগণের হাতে নিরাপদ, সাশ্রয়ী, ভাষাবান্ধব, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায্য ডিজিটাল প্রযুক্তি চাই।
অধ্যাপক আবদুল কাদেরকে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি তাই ব্যক্তিগত আবেগের বিষয় নয়। এটি বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি ইতিহাসকে সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠার দাবি। আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানাই, মরহুম অধ্যাপক আবদুল কাদেরকে মরণোত্তর জাতীয় সম্মানে ভূষিত করা হোক। তাঁর অবদান বিবেচনায় একুশে পদক বা স্বাধীনতা পুরস্কারের মতো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি যথার্থভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাসিক কমপিউটার জগৎকেও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানানো উচিত। কারণ অধ্যাপক আবদুল কাদের ও কমপিউটার জগৎকে আলাদা করে দেখা কঠিন। একজন ছিলেন স্বপ্নদ্রষ্টা, অন্যটি ছিল সেই স্বপ্নের জনমুখী বাহন।
তবে স্বীকৃতি শুধু পদক দিয়ে শেষ হলে চলবে না। বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে একটি জাতীয় আর্কাইভ গড়ে তুলতে হবে। কমপিউটার জগৎ-এর পুরোনো সংখ্যা, প্রচ্ছদ প্রতিবেদন, সম্পাদকীয়, সাক্ষাৎকার, আন্দোলন, মেলা, প্রতিযোগিতা ও নীতিগত দাবিসমূহ সংরক্ষণ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, আইসিটি বিভাগ, প্রযুক্তি সংগঠন, গণমাধ্যম গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজের উদ্যোগে অধ্যাপক আবদুল কাদের স্মারক বক্তৃতা চালু করা যেতে পারে। তথ্যপ্রযুক্তি সাংবাদিকতা ও গণপ্রযুক্তি আন্দোলনে তাঁর নামে জাতীয় পুরস্কার প্রবর্তন করা যেতে পারে। স্কুল-কলেজ পর্যায়ে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি আন্দোলনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করাও জরুরি।
প্রযুক্তির ইতিহাস শুধু যন্ত্রের ইতিহাস নয়। এটি মানুষের ইতিহাস। সাহসী চিন্তার ইতিহাস। অসময়ের আহ্বানের ইতিহাস। অধ্যাপক আবদুল কাদের সেই ইতিহাসের একজন অগ্রবর্তী মানুষ। তিনি বুঝেছিলেন, প্রযুক্তি যদি মানুষের কাছে না যায়, তবে তা বৈষম্য বাড়াবে। আর যদি মানুষের হাতে পৌঁছায়, তবে তা মুক্তির শক্তি হতে পারে।
অধ্যাপক আবদুল কাদেরকে স্মরণ করা মানে শুধু একজন প্রয়াত শিক্ষককে শ্রদ্ধা জানানো নয়। এটি বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি আন্দোলনের শিকড়কে স্বীকার করা। যে মানুষটি কম্পিউটারকে অভিজাত ঘর থেকে সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন, যে পত্রিকাটি বাংলা ভাষায় প্রযুক্তিকে জনআলোচনার বিষয় বানিয়েছিল, তাদের অবদান রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি না পেলে আমাদের ডিজিটাল ইতিহাস অসম্পূর্ণই থেকে যাবে।
তাই সরকারের কাছে আমাদের স্পষ্ট আহ্বান, মরহুম অধ্যাপক আবদুল কাদেরকে মরণোত্তর একুশে পদক বা স্বাধীনতা পুরস্কারের মতো জাতীয় সম্মানে ভূষিত করা হোক। একই সঙ্গে মাসিক কমপিউটার জগৎ-এর পথিকৃৎ ভূমিকারও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হোক। এই স্বীকৃতি কোনো ব্যক্তিগত পুরস্কার নয়; এটি বাংলাদেশের প্রযুক্তি-স্মৃতিকে সঠিক জায়গায় স্থাপন করার জাতীয় দায়িত্ব।
কারণ একটি জাতি শুধু ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে এগোয় না; সে এগোয় তখনই, যখন নিজের পথপ্রদর্শকদের চিনতে শেখে। আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশের পেছনে একজন শিক্ষক, একটি পত্রিকা এবং একটি সাহসী স্লোগানের অমলিন অবদান আছে। সেই অবদানকে আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এখনই সময়, অধ্যাপক আবদুল কাদের ও কমপিউটার জগৎকে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি আন্দোলনের ইতিহাসে তাঁদের প্রাপ্য আসনে বসানোর।
এ এইচ এম বজলুর রহমান
ডিজিটাল গণতন্ত্র, তথ্যের অখণ্ডতা ও গণমাধ্যম উন্নয়ন নীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ
দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর










০ টি মন্তব্য